Wednesday, November 15, 2017
৩৮ তম বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতির নির্দেশনা
৩৮ তম বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতির নির্দেশনা
প্রিলিমিনারিতে টিকতে হলে এখন থেকেই চাই জোর প্রস্তুতি।
বিসিএস পরীক্ষার ডিফিকাল্টি লেভেল আমার কাছে কিছুটা ওভাররেটেড বলেই মনে হয়েছে। এটা তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি পরীক্ষা-এটা যতটা সত্য, সত্যিকার অর্থে প্রতিযোগিতায় আসার মতো প্রার্থী খুব বেশি সাধারণত থাকে না, এটা আরো বেশি সত্য। দুটি ফ্যাক্ট শেয়ার করি।
এক. এই এক্সামে ৫০ শতাংশ ক্যান্ডিডেট যায় জাস্ট ঘুরতে, কোনো কারণ ছাড়াই, অনেকটা গেট-টুগেদার করতে। (মজার ব্যাপার হলো, এদের কেউ কেউ সফলও হয়ে যায়! ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’ টাইপের আরকি!)
দুই. রিয়েল কম্পিটিটিশনে আসার মতো ক্যান্ডিডেট থাকে মাত্র ৭ শতাংশের মতো। এর মানে, আপনার কম্পিটিটর আপনি যতটা ভাবছেন, তত বেশি না।
প্রিলিমিনারির একটি সিলেবাস পিএসসি প্রণয়ন করে দিলেও প্রকৃত অর্থে বিসিএসের কোনো সুনির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। এই পরীক্ষায় শত ভাগ প্রস্তুতি নেওয়া কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়।প্রিলিমিনারিতে ভালো করার জন্য কী কী পড়বেন, সেটা জানার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, কী কী বাদ দিয়ে পড়বেন, সেটা ঠিক করা। ৩৫তম বিসিএস প্রিলি : কিছু পর্যবেক্ষণ
* ক খ গ ঘ-এই সিরিয়ালটা বাম থেকে ডানে না দিয়ে ওপর-নিচে দেওয়ায় অনেক ক্যান্ডিডেটই অন্তত তিন-চারটা জানা প্রশ্নের উত্তর ভুল দাগিয়েছেন।
* এটি ‘এসো নিজেরা করি’ টাইপ কোনো প্রশ্ন না, তাই পরীক্ষার হলে কথা বলেও তেমন কোনো লাভ হয়নি।
* কোচিং সেন্টারে দৌড়ঝাঁপ করে আর গাইড বই পড়ে তেমন কোনো কাজই হবে না, যদি না নিজের মাথায় কিছু থাকে। ভালো প্রস্তুতি নেওয়া অপেক্ষা ভালো পরীক্ষা দেওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
* ‘অমুক কোচিং সেন্টারের সাজেশনে এত পার্সেন্ট কমন’, ‘তমুক গাইডের এতসংখ্যক প্রশ্ন কমন’-
এসব কথা বলার দিন শেষ হতে চলেছে, এটা আমার মনে হয়েছে।
* একেকভাবে ভাবলে একেক রকম উত্তর হয়-এমন প্রশ্ন অন্যান্যবারের তুলনায় গেল প্রিলিমিনারিতে বেশি ছিল। পিএসসি ইচ্ছা করেই এ গেমটা খেলে, যাতে কেউ সেগুলো উত্তর না করে। নেগেটিভ মার্কিংয়ের ফাঁদে পড়ে বিসিএসের আসর থেকে ছিটকে পড়েছেন অনেকেই। লোভে পাপ, পাপে নেগেটিভ মার্কস!
* প্রশ্নটি ভালোভাবে দেখলে খেয়াল করবেন, আপনার অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড যা-ই হোক না কেন, আপনি কোনো বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন না।
* এখন থেকে সব সময় পরীক্ষা এ স্টাইলেই হলে প্রশ্নব্যাংক, ডাইজেস্ট, জব সলিউশন, কোচিং সেন্টারের দৌরাত্ম্য কমে যাবে কিংবা ওদের সেবাদানের ধরন বদলাতে হবে। স্রেফ মুখস্থ বিদ্যার জোরে আমলাতন্ত্রে আসারও দিন শেষ।প্রশ্ন কোথা থেকে হয়? যাঁরা প্রশ্ন করেন, তাঁদের কী সময় আছে গাইড বই দেখে প্রশ্ন করার? কিংবা কোচিং সেন্টারের গাদা গাদা ‘শিটমার্কা’ শিট পড়ার? সত্যিই নেই। গতবারের বিসিএস পরীক্ষা সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। একটা গ্রামারের প্রশ্ন না পারলে আমরা গাইড বই খুঁজতে শুরু করি। একেক গাইডে একেক রকমের উত্তর। এরপর কোচিংয়ের স্যারদের পেছনে ছুটি। কী দরকার, ভাই? ওই গাইড বইয়ের লেখক কিংবা ওই কোচিংয়ের স্যার কি আপনার চেয়ে খুব বেশি জানেন? কী হয় একটু কষ্ট করে ডিকশনারির এন্ট্রিতে গিয়ে এক্সাম্পলগুলো স্টাডি করে শিখলে? একটা প্রশ্ন কিন্তু আরো কয়েকটা প্রশ্নের সূতিকাগার। ওই বইগুলো হচ্ছে সব গাইড বইয়ের বাইবেল। ওখানে যা আছে সেটাই কারেক্ট। ব্যাপারটা খুব কঠিন কিছু না। বই দুটির পৃষ্ঠা উল্টে উল্টে প্রশ্ন সলভ করার প্র্যাকটিস করবেন। প্রথম প্রথম একটু বিরক্ত লাগবে, আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গেলে সেটি নেশায় পরিণত হবে। আমি ‘আপনি আচরি ধর্ম অপরে শেখাও’ নীতিতে বিশ্বাসী। আমি নিজে ওই কাজটা করেছি, তাই আপনাদেরও করতে বলছি। এই কষ্টটা করতে না পারলে, আপনার জন্য একটাই পরামর্শ-ভুল শিখুন, ভুল করুন, ফেল করুন।
অনেকেই বলবেন, আমার তো অমুক অমুক প্রশ্ন পড়া শেষ! আপনার আগে কেউ পড়া শেষ করলেই যে শেষ হাসিটা তিনিই হাসবেন, এমন কোনো কথা নেই। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি, প্রস্তুতি নিতে গিয়ে জানলাম, অনেকের অনেক কিছু পড়া শেষ। 3 Idiots তো দেখেছেন। বন্ধুর খারাপ রেজাল্টে যতটা মন খারাপ হয়, বন্ধুর ভালো রেজাল্টে তার চেয়ে বেশি মেজাজ খারাপ হয়। যখন দেখলাম, আমি অন্যদের তুলনায় বলতে গেলে কিছুই পারি না, তখন আমি দুটি কাজ করলাম। এক. বোঝার চেষ্টা করলাম, ওরা যা পারে, সেটা পারাটা আদৌ দরকার কি না? দুই. ওদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা বন্ধ করে গতকালকের আমির সঙ্গে আজকের আমিকে তুলনা করা শুরু করলাম।
* কোচিং কিংবা এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি না করে বাসায় বসে অনেক সময় দিয়ে পড়াশোনা করুন। দিনে অন্তত ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়াশোনা করুন। ঘুম, বিশ্রাম আর ঘোরাঘুরি হবে চাকরি পাওয়ার পর।
* গাইড বইয়ের প্রশ্নগুলো যত বেশি সম্ভব, সলভ করে ফেলুন। যত বেশি প্রশ্ন সলভ করবেন, প্রস্তুতি ততই ভালো হবে। মডেল টেস্টের তিন-চারটি বই কিনে প্রতিদিন অন্তত দু-তিনটি মডেল টেস্ট দিন। মডেল টেস্টে একটু কম মার্কস পেলেও মন খারাপ করার দরকার নেই।
* গ্রুপ স্টাডি করা কতটুকু দরকার? এটা আপনার অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। আমার এই অভ্যাস ছিল না।
* মাঝেমধ্যে পড়তে ইচ্ছা করবে না, আমারও করত না। সারাক্ষণ পড়তে ইচ্ছা করাটা মানসিক সুস্থতার লক্ষণ নয়।
* কেউ আপনার চেয়ে ভালো ছাত্র হওয়া মানেই এ নয় যে তিনি প্রিলিমিনারি পাস করবেন, আপনি করবেন না। শেষ হাসিটা হাসার চেষ্টা করুন।
সবার প্রস্তুতি ভালো হোক।
সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন......
সৌজন্য: সুশান্ত পাল
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Ads
বিসিএস গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্ন
৩৮তম বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতি ১) 'Venus de milo' কি?? a) একটি চিত্রশিল্প b) একটি সাহিত্যকর্ম c) একটি ভাস্কর্য★★ d) এক...
-
Most Confusing English for Exam . 1. Lay-laid-laid_means keep something. Ex.The postman laid the mail yesterday. Ex2, He lays the m...

No comments:
Post a Comment